Header Ads

বিলুপ্তির পথে নরসিংদী মনোহরদীর বাশঁ শিল্প

Amp newsportal

নিউজ ডেস্ক :বিজ্ঞানের এই যুগে বাজার  প্রতিযোগিতায় কুলাতে পারছে না বাঁশ শিল্পে জড়িত পরিবারগুলো। আধুনিকতার ছোঁয়া আর বাজারে সল্প মূল্যে বাহারি ডিজাইনের প্লাস্টিকের পণ্যের ভিড়ে দিন দিন হারিয়ে যাওয়ার পথে মনোহরদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। এক সময় শহর ও গ্রাম সবখানে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের ব্যবহার ছিল। বাড়িতে মেহমান আসলে মোড়ায় বসতে দেয়ার দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। এখনকার মানুষ এগুলোকে সেকেলে ভাবে। তবুও পূর্ব পুরুষের শেখানো এ কাজ এখনও করে যাচ্ছে তারা, তবে বাণিজ্যিকভাবে নয়, নিজেদের ব্যবহারের জন্য ও খুচরা দুই-একটি বিক্রির উদ্দেশ্যে।
আগের দিনে শহর-গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র ছাড়া যেন কল্পনাও করা যেত না। কিন্তু কালের আবর্তনে আমাদের বাঁশ শিল্প এখন মৃত প্রায়। বর্তমানে প্লাস্টিকের চেয়ার দখল করেছে মোড়ার স্থান। রান্না ঘরেও ঢুকেছে বাঁশের পরিবর্তে লোহার পাত দ্বারা তৈরি মিটসেফ।
জানা যায়, এক দশক পূর্বেও উপজেলার চালাক চর ইউনিয়নের হাফিজপুর, চেঙ্গাইন, বাঘবের, ঘুঁষগাঁও, উড়ুলিয়াসহ আট দশ গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত ছিল। পরিবারের সকল সদস্যদের সহযোগিতায় বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে পারিবারিক খরচ চালিয়েও মোটামোটি কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারত। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ব্যতিত শুধু চোখের  দেখাতে অতীব সহজে এ সকল সামগ্রী তৈরি শিখার পাশাপাশি সকলের দেখা দেখিতে মনের আনন্দে এ কাজে সকলের সহযোগিতাও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্লাস্টিকের বিভিন্ন ডিজাইনের আসবাব পত্রের ভিড়ে এ সকল বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কম থাকা, উপযুক্ত মূল্য না পাওয়া এবং দিন দিন বাঁশ-ঝাড় কমে যাওয়ার ফলে বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পেশা  থেকে মানুষ দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে।

হাফিজপুর গ্রামের ষাট বছর উর্ধ্ব চাঁন মিয়া বলেন, এখন আর এসব  কাজ করে পোষায় না আর বাজারেও এ সকল জিনিসের চাহিদা কম। বাপ-দাদারা এসব কাজ করে গেছে তাদের কাছ থেকে কাজ শিখেছি তাই অবসরে টুক-টাক কিছু বানাইয়ে এসব বিক্রি করে হাত খরচ চলে।

জামাল উদ্দিন জানান, পাঁচ বছর আগে যে বাঁশ কিনতে ৮০-১০০ টাকা লাগত সে বাঁশ  কিনতে এখন ২৫০-৩০০ টাকা লাগে। কিন্তু এখনও এ শিল্পকে আঁকড়ে স্বল্পসংখ্যক শিল্পী যারা পূর্ব পুরুষের শেখানো কাজের ওপর মেধা ও শ্রম দিয়ে দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন মৃতপ্রায় এ শিল্পটিকে। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ দিয়ে নিপুন হাতের তৈরি হরেকরকমের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এমন এক সময় ছিল যখন গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে বাঁশের তৈরি কোলা, ঝুড়ি, পাথি, হাত পাখা, ঢালা, মাছ ধরার পলো, চাটাই, ধান রাখার জাবার, বসার জন্য মোড়া, ঘরের দরজা, হালচাষের জোয়াল ইত্যাদি দেখা যেত। কিন্তু আধুনিক প্লাস্টিকনির্ভর এই সময়ে এ সকল বাঁশের তৈরি নান্দানিক আসবাব পত্র অল্পসংখ্যক বাড়িতেই দেখা যায়। এ টাকা দিয়ে বাঁশ কিনে কিছু তৈরি করে বাঁশের দামও উঠে না। কালের আবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প রক্ষা করার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার প্রয়োজন বলে মনে করেন সমাজের সচেতন মহল।

No comments

কপিরাইট @সময় নিউজ ২৪ -২০১৮ এই সাইটের কোন সংবাদ ও ছবি কপিরাইট করা সম্পূর্ণ বেআইনি . Powered by Blogger.